সীরাত / মদিনা
উহুদ
- তারিখ
- শাওয়াল, ৩ হিজরি · প্রতিষ্ঠিত
- স্থান
- উহুদ পাহাড়, মদিনার কাছে
- ব্যক্তি
- আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রাঃ), মুসআব ইবনে উমায়ের (রাঃ)
সহিহ বুখারিতে বারা (রাঃ) বর্ণনা করেন, তীরন্দাজদের নিজেদের স্থান না ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এবং গনিমতের জন্য অনেকে তা ছেড়ে দিলে কী ঘটেছিল। আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ) মুসআব ইবনে উমাইর (রাঃ)-এর কথা স্মরণ করেন, যাঁর কাফনের জন্য একটি চাদরও যথেষ্ট ছিল না। কুরআন ৩:১৫২-এ এ দিনের কথা বলে।
যেভাবে বর্ণিত হয়েছে
ঘটনাটি — যাঁরা সেখানে ছিলেন তাঁদের ভাষায়
ধীরে ধীরে পড়ুন। যাচাইকৃত হাদিস গ্রন্থ থেকে এগুলো সাহাবিদের নিজেদের কথা।
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَقِينَا الْمُشْرِكِينَ يَوْمَئِذٍ، وَأَجْلَسَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَيْشًا مِنَ الرُّمَاةِ، وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ عَبْدَ اللَّهِ وَقَالَ " لاَ تَبْرَحُوا، إِنْ رَأَيْتُمُونَا ظَهَرْنَا عَلَيْهِمْ فَلاَ تَبْرَحُوا وَإِنْ رَأَيْتُمُوهُمْ ظَهَرُوا عَلَيْنَا فَلاَ تُعِينُونَا ". فَلَمَّا…
বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহূদ যুদ্ধের দিন আমরা মুখোমুখী অবতীর্ণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুল্লাহ [ইবনু যুবায়র (রাঃ)]-কে তীরন্দাজ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করে তাদেরকে (নির্দিষ্ট এক স্থানে) মোতায়েন করলেন এবং বললেন, যদি তোমরা আমাদেরকে দেখ যে, আমরা তাদের উপর বিজয় লাভ করেছি, তাহলেও তোমরা এখান থেকে নড়বে না। আর যদি তোমরা তাদেরকে দেখ যে, তারা আমাদের উপর বিজয় লাভ করেছে, তবুও তোমরা এই স্থান ত্যাগ করে আমাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে না। এরপর আমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করলে তারা পালাতে আরম্ভ করল। এমনকি আমরা দেখতে পেলাম যে, মহিলারা দ্রুত দৌড়ে পর্বতে আশ্রয় নিচ্ছে। তারা পায়ের গোছা থেকে কাপড় টেনে তুলেছে, ফলে পায়ের অলঙ্কারগুলো পর্যন্ত বেরিয়ে পড়ছে। এ সময় তারা (তীরন্দাজরা) বলতে লাগল…
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِيهِ، إِبْرَاهِيمَ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، أُتِيَ بِطَعَامٍ، وَكَانَ صَائِمًا فَقَالَ قُتِلَ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ، وَهْوَ خَيْرٌ مِنِّي، كُفِّنَ فِي بُرْدَةٍ، إِنْ غُطِّيَ رَأْسُهُ بَدَتْ رِجْلاَهُ، وَإِنْ غُطِّيَ رِجْلاَهُ بَدَا رَأْسُهُ ـ وَأُرَاهُ قَالَ ـ وَقُتِلَ حَمْزَةُ وَهْوَ خَيْرٌ مِن…
সা‘দ ইবনু ইবরাহীমের পিতা ইবরাহীম (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘আবদুর রহমান ইবন ‘আওফ (রাঃ)-এর নিকট কিছু খানা আনা হল। তিনি তখন সায়েম ছিলেন। তিনি বললেন, মুস‘আব ইবনু ‘উমায়র (রাঃ) ছিলেন আমার চেয়েও উত্তম ব্যক্তি। তিনি শাহাদাত লাভ করেছেন। তাঁকে এমন একটি চাদরে কাফন দেয়া হয়েছিল যে, তা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত, আর পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে, হামযাহ (রাঃ) আমার চেয়েও উত্তম লোক ছিলেন। তিনি শাহাদাত লাভ করেছেন। এরপর দুনিয়াতে আমাদেরকে অনেক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেয়া হয়েছে অথবা বলেছেন যথেষ্ট পরিমাণে দুনিয়ার ধন-মাল দেয়া হয়েছে। আমার ভয় হচ্ছে, হয়তো আমাদের নেকীর বদলা এখানেই দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এরপর তিনি কাঁদতে লাগলেন, এমনকি খাদ্য পরিহার করলেন। [১২৭৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩…
আল্লাহ যা নাযিল করেছেন
وَلَقَدۡ صَدَقَكُمُ ٱللَّهُ وَعۡدَهُۥٓ إِذۡ تَحُسُّونَهُم بِإِذۡنِهِۦۖ حَتَّىٰٓ إِذَا فَشِلۡتُمۡ وَتَنَٰزَعۡتُمۡ فِي ٱلۡأَمۡرِ وَعَصَيۡتُم مِّنۢ بَعۡدِ مَآ أَرَىٰكُم مَّا تُحِبُّونَۚ مِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلدُّنۡيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلۡأٓخِرَةَۚ ثُمَّ صَرَفَكُمۡ عَنۡهُمۡ لِيَبۡتَلِيَكُمۡۖ وَلَقَدۡ عَفَا عَنكُمۡۗ وَٱللَّهُ ذُو فَضۡلٍ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
আর আল্লাহ সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই নির্দেশে ওদের খতম করছিলে। এমনকি যখন তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে ও কর্তব্য স্থির করার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। আর যা তোমরা চাইতে তা দেখার পর কৃতঘ্নতা প্রদর্শন করেছ, তাতে তোমাদের কারো কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারো বা কাম্য ছিল আখেরাত। অতঃপর তোমাদিগকে সরিয়ে দিলেন ওদের উপর থেকে যাতে তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহর মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।
শিক্ষা
- বিজয় যখন কাছে মনে হয়, তখনই আনুগত্য ও শৃঙ্খলা সবচেয়ে জরুরি।
- ক্ষতি পথেরই অংশ; কুরআন তাকে হতাশা নয়, শিক্ষায় পরিণত করে।
শিক্ষাগুলো ঘটনা ও তার উৎস থেকে নেওয়া সম্পাদকীয় ভাবনা।
একটু থামুন
এই ঘটনা আপনার জীবনের কোন মুহূর্তের কথা মনে করিয়ে দেয়? এক মিনিট ভাবুন, তারপর যিনি এই জীবন যাপন করেছেন তাঁর ﷺ উপর দরুদ পড়ুন।
দরুদ পড়ুন ﷺগ্রন্থপঞ্জি
- সহিহ বুখারি ৪০৪৪ (বারা), ৪০৪৫ · মূল উৎস
- ইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (আরও পড়ার জন্য)
- ইবনে কাসীর, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (আরও পড়ার জন্য)
- সফিউর রহমান মোবারকপুরী, আর-রাহীকুল মাখতূম (আরও পড়ার জন্য)