সীরাত / মদিনা
আয়েশা (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে অপবাদ (ইফক)
- তারিখ
- আনুমানিক ৫–৬ হিজরি · আনুমানিক
- স্থান
- মদিনা
- ব্যক্তি
- আয়েশা (রাঃ), আবু বকর (রাঃ), মিসতাহ (রাঃ)
সহিহ বুখারিতে আয়েশা (রাঃ) বিস্তারিত বর্ণনা করেন, কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব ছড়ায়, আল্লাহ তাঁর নির্দোষিতা ঘোষণা (২৪:১১–২০) করা পর্যন্ত তিনি ধৈর্য ধরেন, আর ২৪:২২ নাযিলের পর আবু বকর (রাঃ) গুজব ছড়ানো মিসতাহকে আবার সাহায্য করতে শুরু করেন।
যেভাবে বর্ণিত হয়েছে
ঘটনাটি — যাঁরা সেখানে ছিলেন তাঁদের ভাষায়
ধীরে ধীরে পড়ুন। যাচাইকৃত হাদিস গ্রন্থ থেকে এগুলো সাহাবিদের নিজেদের কথা।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَعَلْقَمَةُ بْنُ وَقَّاصٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ حَدِيثِ، عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَالَ لَهَا أَهْلُ الإِفْكِ مَا قَالُوا، فَبَرَّأَهَا اللَّهُ مِمَّا قَالُ…
(لَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوْهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُوْنَ وَالْمُؤْمِنٰتُ بِأَنْفُسِهِمْ خَيْرًا) إِلَى قَوْلِهِ : (الْكَاذِبُوْنَ). ‘‘যখন তারা এটা শুনল তখন মু’মিন পুরুষ এবং মু’মিন নারীগণ আপন লোকদের সম্পর্কে কেন ভাল ধারণা করল না এবং বলল না, ‘এটা তো সুস্পষ্ট অপবাদ’। তারা কেন এ ব্যাপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনি? যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, সে কারণে তারা আল্লাহর নিকট মিথ্যাচারী।’’ (সূরাহ নূর ২৪/১২-১৩) ৪৭৫০. ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব, ‘আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস, ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উত্বাহ ইবনু মাস‘উদ (রহ.) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘটনা সম্পর্কে বলেন, যখন অপবাদকারীরা তাঁর প্রতি অপ…
আল্লাহ যা নাযিল করেছেন
إِنَّ ٱلَّذِينَ جَآءُو بِٱلۡإِفۡكِ عُصۡبَةٞ مِّنكُمۡۚ لَا تَحۡسَبُوهُ شَرّٗا لَّكُمۖ بَلۡ هُوَ خَيۡرٞ لَّكُمۡۚ لِكُلِّ ٱمۡرِيٕٖ مِّنۡهُم مَّا ٱكۡتَسَبَ مِنَ ٱلۡإِثۡمِۚ وَٱلَّذِي تَوَلَّىٰ كِبۡرَهُۥ مِنۡهُمۡ لَهُۥ عَذَابٌ عَظِيمٞ
যারা মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। তোমরা একে নিজেদের জন্যে খারাপ মনে করো না; বরং এটা তোমাদের জন্যে মঙ্গলজনক। তাদের প্রত্যেকের জন্যে ততটুকু আছে যতটুকু সে গোনাহ করেছে এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্যে রয়েছে বিরাট শাস্তি।
وَلَا يَأۡتَلِ أُوْلُواْ ٱلۡفَضۡلِ مِنكُمۡ وَٱلسَّعَةِ أَن يُؤۡتُوٓاْ أُوْلِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينَ وَٱلۡمُهَٰجِرِينَ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِۖ وَلۡيَعۡفُواْ وَلۡيَصۡفَحُوٓاْۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغۡفِرَ ٱللَّهُ لَكُمۡۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٌ
তোমাদের মধ্যে যারা উচ্চমর্যাদা ও আর্থিক প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন কসম না খায় যে, তারা আত্নীয়-স্বজনকে, অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহর পথে হিজরতকারীদেরকে কিছুই দেবে না। তাদের ক্ষমা করা উচিত এবং দোষক্রটি উপেক্ষা করা উচিত। তোমরা কি কামনা কর না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।
শিক্ষা
- যাচাই না করা কথা ছড়ানো গুরুতর অন্যায় — শেয়ার করার আগে যাচাই করুন।
- যে কষ্ট দিয়েছে তাকে ক্ষমা করা, আল্লাহর ক্ষমার আশার সাথে যুক্ত।
শিক্ষাগুলো ঘটনা ও তার উৎস থেকে নেওয়া সম্পাদকীয় ভাবনা।
একটু থামুন
এই ঘটনা আপনার জীবনের কোন মুহূর্তের কথা মনে করিয়ে দেয়? এক মিনিট ভাবুন, তারপর যিনি এই জীবন যাপন করেছেন তাঁর ﷺ উপর দরুদ পড়ুন।
দরুদ পড়ুন ﷺগ্রন্থপঞ্জি
- সহিহ বুখারি ৪৭৫০ (আয়েশা) · মূল উৎস
- সফিউর রহমান মোবারকপুরী, আর-রাহীকুল মাখতূম (আরও পড়ার জন্য)